সরকারি রাজস্ব ও বিভিন্ন সেবার বিপরীতে সরকারের পাওনা অর্থ জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে আগামীকাল বুধবার থেকে ‘এ-চালান’ বা অটোমেটেড চালান ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক হচ্ছে। সরকারি অর্থ সংগ্রহে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা, রাজস্ব তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেজারি সিঙ্গেল অ্যাকাউন্টে (টিএসএ) জমা নিশ্চিত করা এবং ম্যানুয়াল চালান ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ করার লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার অর্থ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন অর্থবছর ২০২৬-২৭ থেকে সরকারি রাজস্ব ও অন্যান্য সব ধরনের সরকারি প্রাপ্তি এ-চালানের মাধ্যমেই জমা দিতে হবে। কোনো মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা অধীনস্থ দপ্তর এ-চালানের বাইরে অন্য কোনো মাধ্যমে সরকারি অর্থ সংগ্রহ বা জমা দিতে পারবে না।
দীর্ঘদিনের একটি বড় সমস্যার সমাধানে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিশেষ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর অঞ্চল ও কাস্টম হাউজগুলোতে অর্থবছরের শেষ দিকে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ বা বেশি প্রবৃদ্ধি দেখানোর জন্য অতিরিক্ত অর্থ জমা নেওয়ার অভিযোগ ছিল। এনবিআরের হিসাবে এসব অর্থ রাজস্ব হিসেবে দেখানো হলেও তাৎক্ষণিকভাবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আইবাস বা ট্রেজারি সিঙ্গেল অ্যাকাউন্টে (টিএসএ) প্রতিফলিত হতো না।
প্রতিবছরই এসব কারণে এনবিআরের প্রকাশিত রাজস্ব আদায়ের তথ্য এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাবের মধ্যে গরমিল দেখা দিত। এনবিআর বেশি রাজস্ব আদায়ের তথ্য প্রকাশ করলেও সরকারের কেন্দ্রীয় হিসাব ব্যবস্থায় সেই অর্থ কম দেখা যেত। এতে সরকারি রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও ব্যয় পরিকল্পনায় জটিলতা তৈরি হতো।
তবে বিদায়ি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ব্যক্তি শ্রেণির আয়কর রিটার্ন অনলাইনে বাধ্যতামূলক করা এবং বিভিন্ন কর-সংক্রান্ত সেবা ডিজিটাল হওয়ায় এ-চালানের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে এনবিআর সরকারি কোষাগারে প্রকৃত জমার তথ্যই রাজস্ব আদায়ের পরিসংখ্যানে প্রকাশ করছে। ফলে এনবিআরে এ-চালানের ব্যবহার নিশ্চিত হলেও অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানে এর ব্যবহার এখনো প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
নতুন ব্যবস্থার ফলে সরকার তাৎক্ষণিকভাবে রাজস্ব জমার তথ্য পাবে এবং সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা আরো কার্যকর হবে বলে মনে করছে অর্থ বিভাগ।
নতুন নির্দেশনায় আরো বলা হয়েছে, সরকারি অর্থ সংগ্রহের জন্য বর্তমানে কোনো পৃথক ব্যবস্থা চালু থাকলে তা বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিভিন্ন হিসাবে সংরক্ষিত সরকারি অর্থ ৩০ জুনের মধ্যে এ-চালানের মাধ্যমে ট্রেজারি সিঙ্গেল অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অর্থ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ-চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে ৪ লাখ ৭ হাজার ২২৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা জমা হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। একই সময়ে ৬ কোটি ৭৫ লাখ চালান প্রক্রিয়াকরণ হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৭১ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ই-চালানের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সব তফসিলি ব্যাংকের শাখা কাউন্টার, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, পাশাপাশি বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায় ও ট্যাপসহ বিভিন্ন মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব ও সেবা ফি পরিশোধ করা যাচ্ছে।





