• ই-পেপার

বাতাস প্রবাহিত হলে মহানবী (সা.) যে দোয়া পড়তেন

প্রতিবেশীর হক আদায়ে সামাজিক দায়িত্ববোধ কাম্য

সাইয়্যিদ মুনিব মুর্শিদ
প্রতিবেশীর হক আদায়ে সামাজিক দায়িত্ববোধ কাম্য
সংগৃহীত ছবি

বর্তমান আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা মানুষকে অনেক সুবিধা দিয়েছে, কিন্তু মানুষের প্রতি মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত দায়িত্ববোধকে অনেকাংশে সংকুচিতও করেছে। ফলে আমরা পাশাপাশি বাস করি, কিন্তু একসঙ্গে বাস করি না। অথচ এমনটি সবসময় ছিল না। একসময় বাংলার জনপদে প্রতিবেশী মানে ছিল প্রয়োজনে প্রথম আশ্রয়, বিপদে প্রথম সহায় এবং আনন্দের প্রথম অংশীদার। নতুন ফসল উঠলে তার ভাগ পৌঁছে যেত পাশের বাড়িতে, অসুস্থতার খবর শুনে মানুষ খোঁজ নিতে ছুটে যেত, কোনো ঘরে শোক নেমে এলে পুরো পাড়া যেন সেই বেদনার ভার ভাগ করে নিত। সমাজ তখন শুধু বাড়িঘরের সমষ্টি ছিল না; ছিল পারস্পরিক মমত্ব, দায়িত্ব ও সহমর্মিতার এক জীবন্ত সংস্কৃতি।

ইসলাম যখন মানবসমাজকে নতুন করে গড়ে তোলার আহ্বান জানায়, তখন এই মানবিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠা করে। প্রতিবেশীর প্রতি সদাচরণকে শুধু সামাজিক সৌজন্য হিসেবে নয়, বরং ঈমানের অংশ এবং সভ্যতার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে ঘোষণা করে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক কোরো না। আর সদ্ব্যবহার করো পিতা-মাতার সঙ্গে, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে, এতিমদের সঙ্গে, মিসকিনদের সঙ্গে, নিকট প্রতিবেশীর সঙ্গে এবং দূরবর্তী প্রতিবেশীর সঙ্গে।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৩৬)

এই আয়াতের ভাষা গভীরভাবে লক্ষ করলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আল্লাহ তাআলা তাঁর ইবাদতের নির্দেশ দেওয়ার পরপরই মানুষের অধিকারের কথা উল্লেখ করেছেন। যেন মানুষের কাছে এ কথাই পৌঁছে দেওয়া হয়েছে যে, আকাশের রবের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করতে চাইলে মাটির মানুষের প্রতিও দায়িত্বশীল হতে হবে। স্রষ্টার প্রতি আনুগত্য এবং সৃষ্টির প্রতি মমত্ব—ইসলামের দৃষ্টিতে এ দুটো কখনো পরস্পর বিচ্ছিন্ন নয়।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন ছিল এই শিক্ষার সবচেয়ে উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি। তিনি এমন এক সমাজ গড়ে তুলেছিলেন, যেখানে একজন মানুষের মর্যাদা শুধু তার ইবাদত দ্বারা নয়, তার সামাজিক আচরণ দ্বারাও মূল্যায়িত হতো। প্রতিবেশীর অধিকারের ব্যাপারে তাঁর উদ্বেগ এতটাই গভীর ছিল যে, আবদুল্লাহ ইবন ওমর (রা.) বর্ণনা করেন, মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘জিবরাইল (আ.) আমাকে প্রতিবেশীর ব্যাপারে এত বেশি উপদেশ দিতে থাকলেন যে, আমার ধারণা হয়েছিল তিনি হয়তো প্রতিবেশীকেও উত্তরাধিকারী বানিয়ে দেবেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬০১৪, সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৬২৪)

হাদিসের এই ভাষা শুধু একটি নির্দেশনা নয়; এটি একটি সভ্যতার রূপরেখা। যে সমাজে প্রতিবেশীর অধিকারকে এত গুরুত্ব দেওয়া হয়, সেখানে সামাজিক বিচ্ছিন্নতার সুযোগ খুব কমই থাকে।

মদিনার সমাজ ছিল সেই আদর্শের বাস্তব রূপ। সেখানে মানুষ কেবল নিজেদের ঘর নির্মাণ করেনি। তারা নির্মাণ করেছিল পারস্পরিক আস্থা ও দায়িত্ববোধের এক অনন্য সংস্কৃতি। একজন ক্ষুধার্ত থাকলে অন্যজন তৃপ্তির সঙ্গে আহার করাকে লজ্জার বিষয় মনে করত। একজন অসুস্থ হলে তার খোঁজ নেওয়া ছিল নৈতিক কর্তব্য। একজন মুসাফিরের আগমন মানে ছিল নতুন এক দায়িত্বের সূচনা।

এই সামাজিক চেতনার প্রতিফলন আমরা খোলাফায়ে রাশেদীনের যুগেও দেখতে পাই। ইতিহাসবিদ মুহাম্মদ ইবন জারির আত-তাবারি তাঁর তারিখুর রুসুল ওয়াল মুলূক গ্রন্থে এবং ইবনুল জাওজি তাঁর মানাকিবে ওমর গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, খলিফা ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) প্রায়ই রাতের অন্ধকারে মানুষের অবস্থা জানার জন্য বের হতেন। এক রাতে তিনি দূর থেকে শিশুদের কান্নার শব্দ শুনলেন। কাছে গিয়ে দেখলেন, একটি হাঁড়িতে শুধু পানি ফুটছে। অসহায় মা সন্তানদের সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য এমনটি করছেন, যাতে তারা ঘুমিয়ে পড়ে। ঘরে খাবার নেই।

ঘটনাটি শুনে ওমর (রা.) বায়তুল মাল থেকে খাদ্য এনে নিজ কাঁধে বহন করেন। তাঁর সহযোগী যখন খাদ্যের বস্তা বহনের প্রস্তাব দেন, তিনি জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘কিয়ামতের দিন আমার বোঝাও কি তুমি বহন করবে?’ এটি শুধু আবেগময় একটি কাহিনি নয়; এটি ইসলামী সমাজদর্শনের এক জীবন্ত দলিল। এখানে শাসক, প্রতিবেশী এবং সমাজ—সবাই এক বৃহত্তর নৈতিক দায়িত্বের অংশ।

মহান মুসলিম মনীষী আবু হামিদ আল-গাজ্জালী তাঁর ইহইয়াউ উলূমিদ্দিন গ্রন্থে প্রতিবেশীর অধিকারের আলোচনা করতে গিয়ে একটি সূক্ষ্ম বিষয়ের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘প্রতিবেশীর হক শুধু তাকে কষ্ট না দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তার কষ্টকে উপলব্ধি করা, প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানো, তার ভুলত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখা এবং তার সম্মান রক্ষা করাও এর অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ ইসলামের শিক্ষা নিষ্ক্রিয় সহাবস্থানের নয়; বরং সক্রিয় সহমর্মিতার শিক্ষা।

উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংস্কারক শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী তাঁর হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ গ্রন্থে শরিয়তের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে দেখিয়েছেন, ইসলামের বহু বিধান মূলত মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করার জন্য প্রণীত। সমাজে আস্থা, সহযোগিতা এবং দায়িত্ববোধ সৃষ্টি করা শরিয়তের অন্যতম মৌলিক লক্ষ্য।

চতুর্দশ শতাব্দীর চিন্তাবিদ ইবন খালদুন তাঁর বিখ্যাত আল-মুকাদ্দিমাহ গ্রন্থে লিখেছিলেন, কোনো সভ্যতার প্রকৃত শক্তি তার সেনাবাহিনী বা সম্পদে নয়; বরং মানুষের পারস্পরিক সংহতিতে। ইতিহাসের বহু শক্তিশালী সাম্রাজ্য বাহ্যিক জৌলুস থাকা সত্ত্বেও পতনের মুখে পড়েছে, কারণ তাদের সামাজিক বন্ধন দুর্বল হয়ে গিয়েছিল।

আজকের পৃথিবীর দিকে তাকালে তাঁর এই বিশ্লেষণ নতুন করে ভাবায়। আধুনিক মানুষ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি সংযুক্ত, কিন্তু একই সঙ্গে বেশি নিঃসঙ্গ। যোগাযোগের মাধ্যম বেড়েছে, অথচ যোগাযোগের উষ্ণতা কমেছে। সামাজিক মাধ্যমের বন্ধু তালিকা দীর্ঘ হয়েছে, কিন্তু বিপদের সময় দরজায় কড়া নাড়ার মানুষ কমেছে।

আধুনিক মুসলিম চিন্তাবিদ মালেক বেননবী তাঁর রচনায় সভ্যতার সংকটকে মূলত নৈতিক ও সামাজিক সংকট হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর মতে, যখন সমাজ থেকে পারস্পরিক দায়িত্ববোধ হারিয়ে যায়, তখন বস্তুগত উন্নতি থাকলেও সভ্যতার ভেতরকার প্রাণশক্তি ক্ষয় হতে শুরু করে।

সম্ভবত এ কারণেই রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতিবেশীর নিরাপত্তাকে ঈমানের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আল্লাহর শপথ! সে মুমিন নয়। আল্লাহর শপথ! সে মুমিন নয়। আল্লাহর শপথ! সে মুমিন নয়। সাহাবিগণ জিজ্ঞেস করলেন, কে সে? তিনি বললেন, যার অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ নয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬০১৬)

এই হাদিসে শুধু ক্ষতির কথা বলা হয়নি; বলা হয়েছে নিরাপত্তার কথা। একজন মানুষের উপস্থিতি কি তার আশপাশের মানুষের জন্য স্বস্তির কারণ, নাকি উদ্বেগের কারণ—ইসলাম সেই প্রশ্নটিই সামনে নিয়ে আসে।

আজ যখন পরিবার ছোট হচ্ছে, আত্মীয়তার বন্ধন দুর্বল হচ্ছে এবং মানুষ ক্রমশ ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়ে পড়ছে, তখন প্রতিবেশীর হক নিয়ে ইসলামের শিক্ষা নতুন তাৎপর্য লাভ করে। কারণ সুস্থ সমাজ গড়ে ওঠে শুধু আইন দিয়ে নয়, মানুষের হৃদয়ে দায়িত্ববোধ জাগ্রত হওয়ার মাধ্যমে। সভ্যতার স্থায়িত্ব শেষ পর্যন্ত ইট-পাথরের উপর নির্ভর করে না; নির্ভর করে মানুষের পারস্পরিক আস্থার উপর। যে সমাজে প্রতিবেশীর দরজা প্রয়োজনে খোলা থাকে, যেখানে দুর্বল মানুষ নিজেকে একা মনে করে না, যেখানে মানুষের সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেওয়ার সংস্কৃতি জীবিত থাকে—সেই সমাজই প্রকৃত অর্থে শক্তিশালী সমাজ। প্রতিবেশীর হক আদায় নিছক একটি নৈতিক শিক্ষা নয়; এটি একটি সভ্যতার আত্মরক্ষার সংগ্রাম। কারণ মানুষ একা বাঁচার জন্য সৃষ্টি হয়নি। তার জীবন পূর্ণতা পায় তখনই, যখন নিজের ঘরের আলো কিছুটা হলেও পাশের ঘরের অন্ধকার দূর করতে পারে।

লেখক : শিক্ষক, মাদরাসাতুল মানার মহাখালী ঢাকা্।

হাদিসের বাণী

আদব ও ইনসাফ শিক্ষায় নববী পাঠ

ইসলামী জীবন ডেস্ক
আদব ও ইনসাফ শিক্ষায় নববী পাঠ
সংগৃহীত ছবি

সাহল ইবনে সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার মহানবী (সা.)-এর সামনে পানীয় পেশ করা হলো। তখন মহানবী (সা.) সেই পানীয় থেকে পান করলেন। তাঁর ডান পাশে একজন ছেলে ছিল আর বাঁ-পাশে কয়েকজন বয়স্ক লোক ছিল। মহানবী (সা.) কিশোরকে বললেন, তুমি কি আমাকে প্রথমে বয়স্ক লোকদের পান করানোর অনুমতি দেবে? সে বলল, ওয়াল্লাহি, ইয়া রাসুলাল্লাহ, আপনার কাছ থেকে আমার ভাগে আসা জিনিসের ক্ষেত্রে আমি কাউকে আমার ওপর অগ্রাধিকার দিতে পারি না। (সাদ বলেন,) মহানবী (সা.) তখন পাত্রটি তার হাতে দিলেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৫২৯২, মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২২৮৬৭)

শিক্ষা ও বিধান 
১. ডান দিক থেকে শুরু করা সুন্নত। তাই মহানবী (সা.) নিজের ডান পাশে থাকা কিশোরকে প্রথম হকদার হিসেবে গণ্য করেছেন।
২. বয়সে বড় হওয়া সত্ত্বেও বয়স্কদের আগে দেওয়া হয়নি; কারণ শরিয়ত অনুযায়ী ডান পাশে থাকা ব্যক্তির অধিকার আগে ছিল।
৩. বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মান করা উচিত। তাই মহানবী (সা.) নিজে কিশোরের কাছে অনুমতি চেয়েছিলেন যাতে বয়স্কদের আগে দেওয়া যায়।
৪. ছোটদেরও মর্যাদা রয়েছে। একজন কিশোর হলেও তার অধিকারকে অবহেলা করা হয়নি। আর ইসলামে বয়স কম হওয়ার কারণে কারও ন্যায্য অধিকার নষ্ট করা বৈধ নয়।
৫. অনুমতি ছাড়া অন্যের অধিকার হরণ করা যায় না। এটি প্রমাণ করে যে কারও প্রাপ্য অধিকার তার সম্মতি ছাড়া অন্যকে দেওয়া উচিত নয়।
৬. বরকতপূর্ণ জিনিস লাভের আগ্রহ থাকা স্বাভাবিক। তাই কিশোরটি মহানবী (সা.)-এর ব্যবহৃত পাত্র থেকে পান করার সৌভাগ্য লাভ করতে চেয়েছিল।
৭. যেকোনো কথা স্পষ্টভাবে বলা জরুরি। কিশোরটি বিনয়ের সঙ্গে নিজের মতামত প্রকাশ করেছে।

এই হাদিসে একদিকে যেমন বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মান করার শিক্ষা রয়েছে, তেমনি অন্যদিকে প্রত্যেক মানুষের ন্যায্য অধিকার রক্ষার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়েছে। মহানবী (সা.) আমাদের শিখিয়েছেন যে, সম্মান, ন্যায়বিচার, আদব ও শরিয়ত নির্ধারিত হকের প্রতি শ্রদ্ধা—এসব গুণ একজন মুমিনের চরিত্রকে পরিপূর্ণ করে। তাই আমাদের উচিত মানুষের মর্যাদা রক্ষা করা এবং প্রত্যেককে তার প্রাপ্য অধিকার প্রদান করা।

সাফল্য লাভে গোপন ইবাদতের গুরুত্ব

মুফতি ওমর বিন নাছির
সাফল্য লাভে গোপন ইবাদতের গুরুত্ব
সংগৃহীত ছবি

মানুষের জীবনে এমন কিছু মুহূর্ত আছে, যখন সে একা থাকে—কেউ তাকে দেখে না, কেউ তার প্রশংসা করে না, কেউ তার আমল গণনা করে না। কিন্তু সেই নির্জন মুহূর্তেও একজন মুমিনের হৃদয় জেগে থাকে। সে জানে, পৃথিবীর সব চোখ বন্ধ হলেও আসমানের মালিক তাকে দেখছেন। তাই সে নিভৃতে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে, অশ্রুসিক্ত নয়নে ক্ষমা প্রার্থনা করে, গোপনে দান করে, নিরবে আল্লাহর জিকির করে। এই নিভৃত ইবাদতই একজন বান্দার ইখলাস, তাকওয়া ও আল্লাহপ্রেমের প্রকৃত পরিচয় বহন করে।

প্রকাশ্য আমল মানুষ দেখতে পায়, কিন্তু গোপন আমল কেবল আল্লাহই জানেন। আর যে আমলের সাক্ষী কেবল আল্লাহ, সেই আমলের মর্যাদা তাঁর কাছে কত মহান—তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। এজন্যই সালাফে সালেহিন গোপন ইবাদতকে ঈমানের প্রাণ এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম হিসেবে গণ্য করতেন।

গোপন ইবাদত : ইখলাসের সর্বোত্তম নিদর্শন
গোপন ইবাদতের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এতে লোক দেখানোর সুযোগ খুব কম থাকে। বান্দা যখন একান্তে আল্লাহর জন্য কোনো নেক আমল করে, তখন তার উদ্দেশ্য থাকে কেবল রবের সন্তুষ্টি অর্জন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা তোমাদের রবকে ডাকো বিনীতভাবে ও গোপনে। নিশ্চয়ই তিনি সীমালঙ্ঘনকারীদের ভালোবাসেন না।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ৫৫)
এই আয়াত প্রমাণ করে যে, আল্লাহ গোপন দোয়া ও নির্জন ইবাদতকে বিশেষভাবে পছন্দ করেন।

রাতের ইবাদত ও আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের পরিচয়
রাতের গভীর নির্জনতায় যখন মানুষ ঘুমে বিভোর থাকে, তখন কিছু সৌভাগ্যবান বান্দা তাদের রবের সামনে দাঁড়িয়ে কান্নাকাটি করে। তারা মানুষের চোখ থেকে দূরে থেকে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তাদের পার্শ্বদেশ শয্যা থেকে পৃথক থাকে; তারা ভয় ও আশা নিয়ে তাদের রবকে ডাকে।’ (সুরা : সাজদাহ, আয়াত : ১৬)
তাহাজ্জুদ, গভীর রাতে কোরআন তিলাওয়াত, ইস্তিগফার ও অশ্রুসিক্ত দোয়া—এসব এমন আমল যা বান্দাকে আল্লাহর বিশেষ নৈকট্য দান করে।

গোপন দান আল্লাহর ক্রোধ নিবারণ করে
গোপনে দান করা এমন একটি নেক আমল, যা মানুষের সম্মান রক্ষা করে এবং দাতার ইখলাস বৃদ্ধি করে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা রাতে ও দিনে, গোপনে ও প্রকাশ্যে তাদের সম্পদ ব্যয় করে, তাদের জন্য তাদের রবের কাছে প্রতিদান রয়েছে। তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৭৪)

রাসুলুল্লাহ (সা.) কিয়ামতের দিন আরশের ছায়াপ্রাপ্ত সাত শ্রেণির মানুষের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে বলেছেন, ‘...এমন ব্যক্তি, যে গোপনে দান করেছে; এমনকি তার ডান হাত যা দান করেছে, বাম হাতও তা জানেনি।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৪২৩, সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১০৩১)

গোপন আমল বিপদ থেকে মুক্তির মাধ্যম
আল্লাহর কাছে কবুল হওয়া কোনো নেক আমল মানুষের জীবনের কঠিনতম বিপদ থেকেও মুক্তি এনে দিতে পারে। রাসুলুল্লাহ (সা.) তিন ব্যক্তির ঘটনা বর্ণনা করেছেন, যারা একটি গুহায় আটকা পড়েছিলেন। তারা প্রত্যেকে নিজেদের একান্ত আন্তরিক নেক আমলের উসিলায় আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলেন। ফলে আল্লাহ তাদের বিপদ দূর করে দেন এবং তারা মুক্তি লাভ করেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২২১৫, সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৭৪৩)
এ ঘটনা আমাদের শেখায় যে, গোপন ও খাঁটি আমল আল্লাহর দরবারে কত মূল্যবান।

নবী ইউনুস (আ.)-এর মুক্তির রহস্য
আল্লাহর নবী ইউনুস (আ.) যখন মাছের পেটের অন্ধকারে বন্দি হয়ে পড়েছিলেন, তখন তিনি একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর তাসবিহ পাঠ করেছিলেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যদি তিনি আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত না হতেন, তবে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত মাছের পেটেই অবস্থান করতেন।’ (সুরা : সাফফাত, আয়াত : ১৪৩-১৪৪)


গোপন আমল মানুষকে ইহসানের স্তরে পৌঁছে দেয়। গোপন ইবাদত বান্দার অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে এবং তাকে ইহসানের উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ইহসান হলো, তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে যেন তুমি তাঁকে দেখছ; আর যদি তাঁকে দেখতে না পারো, তবে বিশ্বাস করবে যে তিনি তোমাকে দেখছেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫০)
যে ব্যক্তি নির্জনে আল্লাহকে স্মরণ করে, সে ধীরে ধীরে এই অনুভূতিতে অভ্যস্ত হয়ে যায় যে, আল্লাহ সর্বদা তাকে দেখছেন।

গোপনে করা যায় এমন কিছু মহৎ আমল

তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করা।
গভীর রাতে ইস্তিগফার করা।
গোপনে দান-সদকা করা।
নফল রোজা রাখা।
কাউকে না জানিয়ে অসহায় মানুষের সাহায্য করা।
এতিম, বিধবা ও দরিদ্রদের সহযোগিতা করা।
নির্জনে কোরআন তিলাওয়াত করা।
একাকী অবস্থায় জিকির ও দোয়ায় মশগুল থাকা।
মানুষের জন্য গোপনে দোয়া করা।

অতএব, গোপন ইবাদত হলো মুমিনের সেই অমূল্য সম্পদ, যা মানুষের প্রশংসা থেকে মুক্ত এবং সরাসরি আল্লাহর দরবারে জমা হয়। প্রকাশ্য আমল মানুষ দেখতে পারে, কিন্তু গোপন আমল শুধু আল্লাহ দেখেন। আর যে আমলের সাক্ষী স্বয়ং আল্লাহ, তার মর্যাদা কত মহান হতে পারে—তা শুধু তিনিই জানেন।

তাই আসুন, আমরা এমন কিছু নেক আমল নিজের জন্য সংরক্ষণ করি, যা পৃথিবীর কেউ জানবে না। এমন কিছু সিজদা, এমন কিছু অশ্রু, এমন কিছু দান, এমন কিছু দোয়া—যার সাক্ষী শুধু আল্লাহ। হয়তো কিয়ামতের ভয়াবহ দিনে, যখন আমলনামা খুলে দেওয়া হবে, তখন সেই গোপন আমলগুলোই আমাদের মুক্তির কারণ হবে এবং আল্লাহর রহমতের দরজা উন্মুক্ত করে দেবে। যে বান্দার গোপন সম্পর্ক আল্লাহর সঙ্গে দৃঢ়, তার প্রকাশ্য জীবনও আল্লাহ সুন্দর করে দেন। আর যে ব্যক্তি নির্জনে আল্লাহকে খুঁজে পায়, সে কখনো প্রকৃত অর্থে একা থাকে না।

হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের নতুন প্রজন্ম

মাওলানা আদনান জহির
হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের নতুন প্রজন্ম
সংগৃহীত ছবি

বিকেলের সোনাঝরা রোদ, মাঠজুড়ে ছুটে চলা দুরন্ত কিশোরেরা, বন্ধুদের প্রাণখোলা হাসি, ফুটবল আর ক্রিকেটের উত্তেজনা—একসময় এ দৃশ্য ছিল আমাদের সমাজের অতি পরিচিত ছবি। মাগরিবের আজান না হওয়া পর্যন্ত চলত দৌড়ঝাঁপ, খেলাধুলা আর আনন্দ-উচ্ছ্বাস। ধুলোবালি মাখা শরীর, ঘামে ভেজা জামা আর ক্লান্ত মুখের প্রশান্ত হাসিতে ফুটে উঠত একটি সুস্থ ও প্রাণবন্ত শৈশবের প্রতিচ্ছবি। 

কিন্তু আজ সেই দৃশ্য যেন ধীরে ধীরে ইতিহাস হয়ে যাচ্ছে। মাঠের জায়গা দখল করেছে মোবাইল ফোনের স্ক্রিন, বন্ধুর আড্ডার জায়গা নিয়েছে ভার্চুয়াল চ্যাট, আর বাস্তব খেলাধুলার পরিবর্তে শিশু-কিশোরেরা ডুবে যাচ্ছে ডিজিটাল গেমসের কৃত্রিম জগতে। আজকের শিশুদের বড় একটি অংশ বন্দি হয়ে পড়েছে চার দেয়ালের ভেতর, হাতে স্মার্টফোন আর চোখে স্ক্রিনের নীল আলো। এটি শুধুমাত্র প্রযুক্তির অগ্রগতির গল্প নয়; বরং এটি একটি জাতির ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চিন্তা, চরিত্র, স্বাস্থ্য ও জীবনদর্শনের পরিবর্তনের গল্প।

উদ্দেশ্যহীন জীবন কাম্য নয়
মানুষকে আল্লাহ তাআলা অনর্থক সৃষ্টি করেননি। মানুষের জীবন একটি মহান উদ্দেশ্যপূর্ণ জীবন। তাই সময়, শক্তি ও মেধাকে অর্থহীন কাজে ব্যয় করা একজন মুমিনের জন্য শোভনীয় নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা কি মনে করেছিলে যে, আমি তোমাদেরকে অনর্থক সৃষ্টি করেছি এবং তোমরা আমার কাছে ফিরে আসবে না?’ (সুরা : মুমিনুন, আয়াত : ১১৫)

আজ যখন অসংখ্য শিশু-কিশোর ঘণ্টার পর ঘণ্টা সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রোল করছে, ভার্চুয়াল যুদ্ধের খেলায় মগ্ন থাকছে এবং বাস্তব জীবনের মূল্যবান সময় অপচয় করছে, তখন এই আয়াত আমাদের সামনে গভীর প্রশ্ন ছুড়ে দেয়—আমরা কি আমাদের জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য ভুলে যাচ্ছি?

হারিয়ে যাচ্ছে শৈশবের প্রাণচাঞ্চল্য
একসময় শিশুদের আনন্দ ছিল মাঠে। তারা দলবদ্ধভাবে খেলত, নেতৃত্ব শিখত, সহযোগিতা শিখত, জয়-পরাজয় মেনে নিতে শিখত। খেলাধুলা তাদের শুধু শরীরকে শক্তিশালী করত না; বরং চরিত্র, আত্মবিশ্বাস এবং সামাজিক দক্ষতাও গড়ে তুলত। কিন্তু আজ বাস্তব মাঠের জায়গা দখল করেছে ফ্রি ফায়ার, পাবজি কিংবা অন্যান্য ভার্চুয়াল গেমস। বাস্তব জীবনের বন্ধুদের পরিবর্তে স্ক্রিনের ভেতরের চরিত্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে উঠছে। ফলে শিশুরা ধীরে ধীরে বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। যেখানে ইসলামের ইতিহাসে আমরা দেখি, অল্পবয়সী সাহাবিরা ঈমান, সাহস ও আত্মত্যাগের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন; সেখানে আমাদের অনেক কিশোর আজ ঘণ্টার পর ঘণ্টা কৃত্রিম জগতের পেছনে ব্যয় করছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন বান্দার দুই পা এক কদমও সরবে না, যতক্ষণ না তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে—তার জীবন কী কাজে ব্যয় করেছে, তার জ্ঞান দিয়ে কী করেছে, তার সম্পদ কোথা থেকে অর্জন করেছে ও কোথায় ব্যয় করেছে এবং তার শরীর কী কাজে ক্ষয় করেছে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৪১৭)
এই হাদিস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, মানুষের প্রতিটি মুহূর্ত আল্লাহর নিকট জবাবদিহির বিষয়। তাই সময়কে এমন কাজে ব্যয় করা উচিত যা দুনিয়া ও আখিরাত উভয় ক্ষেত্রেই কল্যাণ বয়ে আনে।

যেসব কারণে আমাদের শিশুরা মাঠ ছেড়ে স্ক্রিনে
১. খেলার মাঠের সংকট

অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে শহর ও মফস্বলে খেলার মাঠ ক্রমেই কমে যাচ্ছে। বহুতল ভবনের ভিড়ে শিশুদের জন্য নিরাপদ উন্মুক্ত স্থান দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে।

২. নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগ
ব্যস্ত জীবনযাপন এবং সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেক অভিভাবক সন্তানদের বাইরে পাঠাতে স্বস্তি বোধ করেন না। ফলে শিশুদের বিনোদনের প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে স্মার্টফোন।

৩. প্রযুক্তির আসক্তিমূলক নকশা
আধুনিক অ্যাপস, গেমস এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয় যাতে ব্যবহারকারীরা দীর্ঘ সময় ধরে এগুলোর সঙ্গে যুক্ত থাকে। প্রতিনিয়ত নতুন কনটেন্ট, নোটিফিকেশন এবং পুরস্কারভিত্তিক ডিজাইন শিশুদের মনোযোগকে আটকে রাখে।


শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির কারণ
দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহারের ফলে স্থূলতা, ঘাড় ও মেরুদণ্ডের ব্যথা, চোখের সমস্যা, ঘুমের ব্যাঘাত এবং শারীরিক দুর্বলতা দেখা দেয়। মাঠের খেলাধুলা মানুষকে দলগত জীবন শেখায়। কিন্তু অতিরিক্ত স্ক্রিন-নির্ভরতা শিশুদের একাকী, আত্মকেন্দ্রিক ও খিটখিটে করে তোলে। বাস্তব সম্পর্কের চেয়ে ভার্চুয়াল সম্পর্ক তাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের ফলে পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যায়। দীর্ঘ সময় কোনো কাজে একাগ্র থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

অথচ রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘শক্তিশালী মুমিন দুর্বল মুমিনের তুলনায় উত্তম এবং আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়।’(সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৬৬৪)
এখানে শক্তি বলতে শুধু শারীরিক শক্তি নয়; বরং ঈমানি শক্তি, মানসিক দৃঢ়তা, কর্মক্ষমতা এবং উপকারী দক্ষতাও অন্তর্ভুক্ত। খেলাধুলা, শরীরচর্চা এবং সুস্থ জীবনযাপন একজন মুমিনকে এই শক্তি অর্জনে সহায়তা করে।

তরুণদের যৌবন, মেধা ও শক্তি আল্লাহর এক মহান আমানত। এই মূল্যবান সময়কে অর্থহীন বিনোদন, অবিরাম স্ক্রোলিং এবং ভার্চুয়াল জগতের পেছনে নষ্ট করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আজ যারা বইয়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব করবে, জ্ঞান অর্জন করবে, শরীরচর্চা করবে, ইসলামী আদর্শে নিজেকে গড়বে—তারাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে। আর যারা কেবল স্ক্রিনের নেশায় ডুবে থাকবে, তারা ধীরে ধীরে নিজেদের সম্ভাবনাকেই ধ্বংস করবে।


আজকের শিশু আগামী দিনের রাষ্ট্রনায়ক, আলেম, বিজ্ঞানী, শিক্ষক, উদ্যোক্তা ও সমাজনেতা। তাই তাদের শৈশবকে স্ক্রিনের বন্দিদশা থেকে মুক্ত করা সময়ের অন্যতম বড় দাবি। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে একযোগে শিশুদের জন্য খেলার মাঠ, সুস্থ সাংস্কৃতিক পরিবেশ এবং নৈতিক শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে, যেন প্রযুক্তি হয় উপকারের মাধ্যম, ধ্বংসের নয়।

মনে রাখতে হবে, একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয় তার শিশুদের হাতে। আজ আমরা যদি তাদের হাতে বই, জ্ঞান, চরিত্র ও সুস্থ জীবন তুলে দিতে পারি, তবে আগামীকাল তারা হবে উম্মাহর গর্ব। আর যদি তাদেরকে স্ক্রিনের নেশা ও উদ্দেশ্যহীন বিনোদনের মাঝে হারিয়ে যেতে দিই, তবে তার মাশুল পুরো সমাজকেই দিতে হবে। আজকের শিশুই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এখনই।

লেখক : শিক্ষক, মাদরাসাতুত তাক্বওয়া আল-ইউসুফিয়্যাহ সরাইল, বি-বাড়িয়া।