দুইবারের বেশি এবং চাকরির ৬ মাসের মধ্যে একজন নারী কর্মচারী বা শ্রমিককে ছুটিসহ ‘প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা’ না দেওয়ার বিধান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হাইকোর্ট। শ্রম আইন ও বাংলাদেশ সার্ভিস রুলসের (বিএসআর) এমন বিধান কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, জানতে রুল জারি করা হয়েছে।
এক রিটে প্রাথমিক শুনানির পর আজ সোমবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল দেন। মন্ত্রিপরিষদসচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব, জনপ্রশাসনসচিব, নারী ও শিশুবিষয়ক সচিব, সমাজকল্যাণসচিব, স্বাস্থ্যসচিবসহ বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
শ্রম আইনের ৪৬ ধারায় বলা আছে, প্রত্যেক নারী কর্মচারী সন্তান প্রসবের সম্ভাব্য তারিখের আগে ৬০ দিন এবং প্রসব পরবর্তী ৬০ দিন প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা পাবেন। তবে শর্ত জুড়ে দিয়ে ধারাটির ১ উপধারায় বলা হয়েছে, কর্মক্ষেত্রের মালিকের অধীনে কমপক্ষে ৬ মাস কাজ না করলে কোনো নারী কর্মচারী এই সুবিধা পাবেন না। আবার ২ উপধারায় বলা আছে, সন্তান প্রসবের সময় সংশ্লিষ্ট নারী কর্মচারীর দুই বা তার বেশি সন্তান জীবিত থাকলে ওই নারী কর্মচারী ‘প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা’ পাবেন না। তবে কোনো ছুটি পাওয়ার অধিকারী হলে, তা তিনি পাবেন। আর বাংলাদেশ সার্ভিস রুলসের ১৭১ বিধির (১এ) উপবিধিতে বলা আছে, একজন নারী কর্মচারী তাঁর সমগ্র চাকরিকালীন সময়ে দুই বারের বেশি প্রসূতি ছুটি পাবেন না।
শ্রম আইর ও সার্ভিস রুলের এসব বিধানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ১৫ জুন রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান। গত রবিবার এ রিটে শুনানির পর সোমবার রুল জারি করেন হাইকোর্ট। আদালতে রিটের পক্ষে ইশরাত হাসান নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মুহাম্মদ আজমী ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মহিউদ্দীন মো. হানিফ।
একজন নারী কর্মচারীর প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা নিশ্চিতে বিবাদীদের ব্যর্থতা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং এ বিষয়ে একটি অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, হাইকোর্ট সে মর্মেও রুল জারি করেছেন বলে সাংবাদিকদের জানান আইনজীবী ইশরাত।






