• ই-পেপার

কয়লার ব্যাটারি থেকে বিদ্যুৎ

  • খনি থেকে কয়লা উত্তোলন এবং সেটি পুড়িয়ে শক্তি উৎপাদনের ফলে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হয়। পরিবেশদূষণ এড়িয়ে সরাসরি কয়লা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উপায় আবিষ্কার করে রীতিমতো হৈচৈ ফেলে দিয়েছেন চীনের শেনজেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। কয়লা থেকে সরাসরি বিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়ে লিখেছেন এস এম তাহমিদ

বিদ্যুৎ ছাড়াই ঠাণ্ডা হবে ঘর

সাদিয়া আফরিন হীরা
বিদ্যুৎ ছাড়াই ঠাণ্ডা হবে ঘর
এআইয়ের তৈরি নেসকডের রূপক ছবি। ছবি : সংগৃহীত

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এয়ার কন্ডিশনিংয়ের ওপর নির্ভরশীলতা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। বর্তমান এয়ার কন্ডিশনিং প্রযুক্তিতে অনেক বিদ্যুৎ খরচ হয়, এতে ব্যবহৃত রাসায়নিক রেফ্রিজারেন্টও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। তাই সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব হিমায়ন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। সৌদি আরবের কিং আব্দুল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির গবেষকরা এক ধরনের লবণ, পানি ও সূর্যের আলো কাজে লাগিয়ে হিমায়নের উপায় আবিষ্কার করেছেন। রোদের তাপেই এটি কাজ করে, কোনো ধরনের বিদ্যুতের প্রয়োজন হয় না। তাই এ প্রযুক্তির নামকরণ করা হয়েছে ‘নো ইলেকট্রিসিটি সাসটেইনেবল কুলিং অন ডিমান্ড’, সংক্ষেপে নেসকড (NESCOD)।

 

কিভাবে কাজ করে

অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট এক ধরনের খনিজ লবণ। এটি পানিতে দ্রবীভূত হওয়ার সময় চারপাশের উত্তাপ শোষণ করে নেয়। এতে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট দ্রবণ দ্রুত ঠাণ্ডা হয়ে যায়। এ ধরনের রাসায়নিক বিক্রিয়াকে বলা হয় এন্ডোথার্মিক প্রক্রিয়া। এটি মাত্র ২৫ মিনিটের মধ্যে ৩০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপামাত্রা কমিয়ে ৩.৬ ডিগ্রিতে নামাতে পারে। এ জন্য কোনো শক্তি ব্যয় হয় না। ঠাণ্ডা করার প্রক্রিয়া শেষে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট দ্রবণের পানি রোদের তাপে শুকিয়ে ফেলা হয়। এতে ফিরে পাওয়া যায় শুষ্ক লবণ, যা আবারও পানিতে গুলিয়ে হিমায়ন প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করা যায়। এই কাজ সম্পন্ন করে বিশেষ ধরনের ত্রিমাত্রিক সোলার রিজেনারেটর। এখানেই শেষ নয়, বাষ্প হয়ে উড়ে যাওয়া পানিটুকুও এই সিস্টেম নষ্ট হতে দেয় না। জলীয় বাষ্পকে আবারও খাঁটি পানিতে রূপান্তর করা হয়। ফিরে পাওয়া পানি অত্যন্ত বিশুদ্ধ, এতে অনাকাঙ্ক্ষিত পদার্থের পরিমাণ ১ পিপিএমেরও (পার্টস পার মিলিয়ন) কম।

 

পরিবেশ দূষণ নেই

এখানে হিমায়ন এবং রিচার্জ প্রক্রিয়া একই সঙ্গে করার প্রয়োজন নেই। দিনে পানি ও লবণ আলাদা করে রেখে রাতে সেগুলো হিমায়নে ব্যবহার করা যায়। বিদ্যুত্হীন প্রত্যন্ত অঞ্চলে বা তীব্র গরমের এলাকায় এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাসযোগ্য পরিবেশ সৃষ্টি করা যাবে বলে গবেষকরা আশাবাদী। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, বারবার ব্যবহার করার পরেও এই সিস্টেমের কার্যক্ষমতা কমে না। তীব্র সূর্যালোকেরও প্রয়োজন নেই, সকাল-দুপুরের স্বাভাবিক রোদেও এক বর্গমিটার জায়গায় প্রতি ঘণ্টায় ২.২ কেজি দ্রবণ বাষ্পীভূত করা যায়। এতে ছোট একটি ঘরের তাপমাত্রা থাকবে ৫ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। ছাদজুড়ে সোলার জেনারেটর বসালে পুরো বাড়িতে শীতল পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব। নেসকোড-এর প্রধান উপকরণ অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট, যা অত্যন্ত সস্তা এবং সহজলভ্য। সরাসরি কোনো বিদ্যুৎ ব্যবহার না করায় এই সিস্টেমে শীতলীকরণের খরচ নামমাত্র। এর ত্রিমাত্রিক সোলার রিজেনারেটর এমনভাবে তৈরি যে খুব ছোট জায়গার মধ্যেও কর্মক্ষম থাকে। এতে কোনো ক্ষতিকর গ্যাস বা অতিরিক্ত জ্বালানি পোড়াতে হয় না বলে এটি গরম অঞ্চলের পরিবেশদূষণ ও কার্বন নিঃসরণ কমাতে বড় ভূমিকা রাখবে। এই প্রযুক্তি প্রত্যন্ত অঞ্চলে শাক-সবজি, ফলমূল এবং জরুরি জীবনরক্ষাকারী ওষুধ নষ্ট হওয়া থেকে বাঁচাবে। যেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই বা নিয়মিত লোডশেডিং হয়, সেখানে কোনো ঝামেলা ছাড়াই একটানা শীতলতা দেবে এই নেসকোড।

 

ব্যবহারে আইনি বাধা

অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট সহজলভ্য হলেও এটি ব্যবহারে নানাবিধ আন্তর্জাতিক বিধি-নিষেধ আছে। পুরো বাসা বা অফিস হিমায়নে যে পরিমাণ লবণ প্রয়োজন, সেটি নিরাপদে ব্যবহার করা সহজ নয়। তাই আপাতত অফ-গ্রিড কোল্ড স্টোরেজের মতো কাজে এ প্রযুক্তি প্রয়োগ নিয়ে কাজ চলছে। শিগগির এ প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রসার ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

 

৫ মিনিটে চার্জ হবে বিওয়াইডি ইভি

৫ মিনিটে চার্জ হবে বিওয়াইডি ইভি
বিওয়াইডি এর ফ্ল্যাশচার্জ স্টেশন। ছবি : সংগৃহীত

বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারের সবচেয়ে বড় সমস্যা, বাহনগুলো চার্জ হতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে। পেট্রল বা ডিজেলচালিত বাহনের জ্বালানি ট্যাংক পূর্ণ করতে সময় লাগে মাত্র কয়েক মিনিট। এ সমস্যা সমাধানে কাজ করছে চীনা ইভি নির্মাতা বিওয়াইডি (BYD)। ১০ জুন প্রতিষ্ঠানটির যুক্তরাজ্য হেডকোয়ার্টারে নতুন ‘ফ্ল্যাশ চার্জিং’ প্রযুক্তি উন্মোচন করা হয়। ইভি চার্জিংয়ের স্ট্যান্ডার্ড ‘টাইপ-২’ পোর্ট ব্যবহার করে কাজ করে এ প্রযুক্তি। কিন্তু প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ১৫০০ কিলোওয়াট পাওয়ারে গাড়ি চার্জ করা যায় এতে। ফলাফল, ব্যাটারিতে ১০ শতাংশ চার্জ থাকা অবস্থায় চার্জ করলে মাত্র ৫ মিনিটে ৭০ শতাংশ চার্জ করা সম্ভব। ৯ মিনিটে ৯৩ শতাংশ পূর্ণ করা যায় ব্যাটারি। বিওয়াইডি জানিয়েছে, এ বছরের শেষ নাগাদ যুক্তরাজ্যে অন্তত ৩০০ ফ্ল্যাশ চার্জার স্থাপন করা হবে। ইভি ব্যবহারের সবচেয়ে বড় সমস্যা আর থাকবে না। এতে করে ইভি কেনায় ক্রেতাদের আগ্রহ আরো বাড়বে। বলা যায় অনেকটা সুপারচার্জ স্টেশনের জোরেই যুক্তরাষ্ট্রে এতটা জনপ্রিয় টেসলা। ফ্ল্যাশচার্জ প্রযুক্তির মাধ্যমে টেসলা ও বিওয়াইডি-র প্রযুক্তিগত তফাৎ অনেকটাই কমবে।

 

♦ টেকবিশ্ব ডেস্ক

 

 

 

একনজরে

অ্যানথ্রোপিকের নতুন মডেল ফেবল ৫

অ্যানথ্রোপিকের নতুন মডেল ফেবল ৫

এআই সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক ৯ জুন বাজারে এনেছে নতুন মডেল ‘ফেবল ৫’। এটিকে বলা হচ্ছে ‘মিথোস ক্লাস’ মডেল। অর্থাৎ বর্তমান ক্লড অপাস, সনেট বা হাইকু মডেলের তুলনায় ফেবলের কাজের পরিধি আরো অনেক বেশি।

মিথোস ঘরানার এআই মডেলগুলো এতটাই শক্তিশালী যে এটি উন্মোচনের আগে বেশ কিছু সাইবার নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে এ বিষয়ে ব্রিফিং দিয়েছিল অ্যানথ্রোপিক, যাতে এ ধরনের এআইয়ের কার্যক্রমে কোনো সাইবার নিরাপত্তা বিপর্যয় সৃষ্টি না হয়। অন্যান্য এআই মডেলের সঙ্গে ফেবল ৫-এর মূল পার্থক্য, এই মডেলটি নিজে থেকেই একটানা গবেষণা চালিয়ে যেতে পারে। ব্যবহারকারীর প্রম্পট বিশ্লেষণ করে কর্মপরিকল্পনার বিষয়ে সিদ্ধান্তও নিতে সক্ষম এটি। অন্যান্য এজেন্টিক এআই সিস্টেমও নিজে থেকেই কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করতে পারে, কিন্তু প্রম্পটের বাইরে গিয়ে কিছু করতে পারে না। অনেক সময় কাজের খুঁটিনাটি বিষয় ব্যবহারকারীর নজর এড়িয়ে যেতে পারে, সে ক্ষেত্রে ফেবল সেসব কাজ নিজে থেকেই করে নিতে সক্ষম। আপাতত শুধু পেইড সাবস্ক্রাইবারদের জন্যই ফেবল অ্যাকসেস উন্মুক্ত। ভবিষ্যতে ফ্রি ব্যবহারকারীদের জন্য অ্যাকসেস চালু হতে পারে, তবে সেই সম্ভাবনা কম। ফেবল ৫ পরীক্ষা করে অনেক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার মন্তব্য করেছেন, এখন থেকে হয়তো কফি বানিয়েই রোজগার করতে হবে—সফটওয়্যার তৈরিতে আর মানুষের প্রয়োজন নেই।

 

জেমিনি অমনির ভালোমন্দ

বাস্তবসম্মত ভিডিও তৈরিতে পটু গুগলের নতুন এআই মডেল জেমিনি অমনি। এর মাধ্যমে তৈরি ডিপফেক ভিডিও শনাক্ত করা কঠিন, এর অপব্যবহার নিয়েও তাই অনেকেই শঙ্কিত। জেমিনি অমনির ভালো-মন্দ নিয়ে লিখেছেন শাহরিয়ার মোস্তফা

জেমিনি অমনির ভালোমন্দ
জেমিনি অমনির তৈরি ভিডিও থেকে নেওয়া দৃশ্য।

লেখা থেকে ছবি, ছবি থেকে লেখা, ছবি থেকে ভিডিও-লেখা, অডিও, ভিডিও ও ছবির মধ্যে যেকোনো একটি মিডিয়াকে ইনপুট হিসেবে দিয়ে অন্য যেকোনো মিডিয়া আউটপুট দেবে গুগলের নতুন এআই জেমিনি অমনি। ১৯ মে গুগল আই/ও ইভেন্টে নতুন এআই মডেলটি উন্মোচিত করেছে এ প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। আপাতত শুধু ছবি থেকে ভিডিও তৈরি করতে পারে জেমিনি অমনি। গুগল জানিয়েছে, জেমিনি অমনি একদিন লেখা, ছবি, অডিও ও ভিডিও—এই চার মাধ্যমের একটি ইনপুট নিয়ে অন্য মিডিয়া জেনারেট করতে পারবে। তবে আপাতত শুধু ছবি ও টেক্সট থেকে ভিডিও বানানোর মধ্যেই এ সেবা সীমাবদ্ধ।

 

নতুন সিরিজ অমনি

গুগল জেমিনির নতুন এআই সিরিজ অমনি। আর এই সিরিজের প্রথম এআই মডেল অমনি ফ্ল্যাশ। যেকোনো ধরনের ছবি আপলোড করে কেমন ভিডিও চাই তার বিবরণ লিখে ব্যবহারকারীরা ১০ সেকেন্ডের ক্লিপ জেনারেট করতে পারবে। এর মধ্যে আবহসংগীত বা অডিও ভয়েসওভারও থাকবে। ছবি তৈরির এআই ন্যানো বানানা যেমন ব্যবহারকারীদের মন জয় করে নিয়েছিল, গুগলের মতে অমনি ফ্ল্যাশও তেমনই জনপ্রিয় হবে। ২০২৫-এর আগস্টের শেষে প্রথম উন্মোচিত হয় ন্যানো বানানা। মডেলটির বয়স এখনো এক বছর হয়নি, এর মধ্যেই জেমিনি ব্যবহারকারীরা অন্তত ৫০ বিলিয়ন ছবি জেনারেট করেছে বলে জানিয়েছে গুগল। আগামী বছরের মধ্যে স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিও তৈরিতে সবার পছন্দ হয়ে উঠবে জেমিনি অমনি—এমনটাই আশা গুগলের।

 

বাস্তবসম্মত ক্লিপ তৈরি

একাধিক ক্লিপের মধ্যে সামঞ্জস্যতা ধরে রাখাতে পারে জেমিনি অমনি। যেমন—প্রথমবার ভিডিও তৈরির পর সেই ভিডিওর মধ্যকার কোনো চরিত্র বা ভিডিওর পটভূমি অথবা বিষয়বস্তু মনে রাখতে বললে, পরে ভিডিও তৈরির সময় ‘অমুক চরিত্রকে তমুক পটভূমিতে বসিয়ে তার হেঁটে যাওয়ার ভিডিও বানাও’ বললেই চলবে। এভাবে ছোট ছোট ক্লিপ জেনারেট করে একই চরিত্র বা পটভূমি নিয়ে দীর্ঘ ভিডিও তৈরি করা যাবে। তবে এ ফিচারটি এখনো ঠিকমতো কাজ করে না। চরিত্র বা পটভূমি ঠিক থাকলেও ছোটখাটো অসামঞ্জস্যতা রয়ে যায়।

 

দাবি বনাম বাস্তবতা

দাবি ও বাস্তবতার মধ্যে ফারাক গুগলের প্রায় প্রতিটি পণ্য ও সেবার মধ্যে আছে। বাজারের অন্যান্য ভিডিও জেনারেশন এআই সেবার চেয়ে নির্ভরযোগ্যতায় জেমিনি অমনি পিছিয়ে থাকলে সাবস্ক্রাইবার বাড়ানো গুগলের জন্য অত্যন্ত কঠিন হবে। জেমিনি অমনি ব্যবহারের জন্য প্রতি মাসে গুনতে হবে অন্তত ২০ ডলার, এতে পাওয়া যাবে এক হাজার ভিডিও ক্রেডিট। একটি ক্লিপ তৈরিতে প্রয়োজন অন্তত ৪০ ক্রেডিট, এডিট করলে ক্লিপপ্রতি আরো বেশি ক্রেডিট খরচ হবে। সিন্থেসিয়া, ক্লিং এআই, রানওয়ে বা ইনভিডিওর মধ্যে থাকা এআই ভিডিও জেনারেশন সেবা ব্যবহারের খরচ অনেকটা জেমিনি অমনি সাবস্ক্রিপশনের মতোই, অথচ সেসব সেবা এখনো নির্ভরযোগ্যতার দৌড়ে গুগলের চেয়ে এগিয়ে।

 

ডিপফেক তৈরিতে ওস্তাদ

আনকোরা নতুন ভিডিও নয়, বরং ভিডিও এডিট করে এর মধ্যে এআই জেনারেটেড পটভূমি বা চরিত্র যোগ করা জেমিনি অমনির সবচেয়ে বড় শক্তি। অফিসের ডেস্কে বসে সেলফি ভিডিও রেকর্ড করে, সেই ক্লিপকে সহজেই আইফেল টাওয়ারের গোড়ায় বসে কফি খাওয়ার ভিডিওতে রূপান্তর করা যায়। এ ধরনের ‘ডিপফেক’ তৈরিতে ওস্তাদ জেমিনি অমনি।

 

দুশ্চিন্তার কারণ

জেমিনি অমনি ব্যবহার করে নিজের ডিপফেক তৈরি করেছেন দ্য ভার্জের সিনিয়র রিভিউয়ার অ্যালিসন জনসন। ভিডিওর মান সম্পর্কে তিনি লিখেছেন, ‘আমাদের বিয়ে হয়েছে ১২ বছর আগে, অর্থাৎ এক যুগ ধরে এক ছাদের নিচে বসবাস করছি আমরা। ডিপফেক ভিডিও দেখে আমার স্বামীও ধরতে পারেনি। সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট আর বিশ্বাস করব না।’

অ্যালিসনের ভাবনা অমূলক নয়। এআইয়ের লেখা এখন আর সহজে ধরা যায় না, ছবির মধ্যেও ‘এআইয়ের ছাপ’ ধরা মুশকিল। এখন যদি ভিডিও দেখেও বোঝা না যায় এর মধ্যে কতটুকু বাস্তব, আর কতটা এআই জেনারেটেড, সে ক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়ার কোনো পোস্টকেই আর বিশ্বাস করার সুযোগ নেই। এ কারণে এখন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন পরীক্ষা বা অ্যাসাইনমেন্ট গ্রহণ বন্ধ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বলা হচ্ছে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে হাতে লেখা কাগজে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য। চাকরির ইন্টারভিউ অনলাইনে নেওয়া বন্ধ করেছে অনেক প্রতিষ্ঠান।

ডিপফেক ব্যবহার করে ভুয়া সংবাদ তৈরির ঘটনা ঘটছে অহরহ। জেমিনি অমনির মাধ্যমে ডিপফেকের অপব্যবহার বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।

 

 

কয়লার ব্যাটারি থেকে বিদ্যুৎ | কালের কণ্ঠ