• ই-পেপার

মান্দায় খাল পুনঃখননে অনিয়ম

প্রধান শিক্ষকের মাতলামি ভিডিও ভাইরাল, শোকজ

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রধান শিক্ষকের মাতলামি ভিডিও ভাইরাল, শোকজ

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালে নিজ কক্ষে বসে প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিনের মদ্যপান ও মাতলামি করার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের নুকালি বহুপার্শ্বিক উচ্চ বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস। ভিডিওতে দেখা যায়, রুহুল আমিন নিজ কক্ষে বসে মাতলামি করছেন। বিদ্যালয়ে তখন এইচএসসির ফাইনাল পরীক্ষা চলছিল। সংবাদ পেয়ে কয়েকজন স্থানীয় সাংবাদিক সেখানে উপস্থিত হলে তিনি নানা অসংলগ্ন কথাবার্তা বলতে থাকেন। এরপর তাঁর স্বজনরা এসে তাঁকে টেনেহিঁচড়ে বাড়িতে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে ভুল স্বীকার করে প্রধান শিক্ষক রুহুল বলেন, ‘মানসিক অশান্তির জন্য মদ খেয়েছিলাম। ওই সময় মাথা ঠিক ছিল না, মদ্যপ অবস্থায় কী বলেছি এবং কী করেছি তা মনে নেই।’

শাহজাদপুরের ইউএনও সাবরিনা শারমিন বলেন, ‘বিষয়টি নজরে আসার পর বৃহস্পতিবার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সাইদুল ইসলাম সেখ তাঁকে শোকজ করেছেন।’

বান্দরবানে ওষুধ কেনায় দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান
বান্দরবানে ওষুধ কেনায় দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষা

বান্দরবান সদর হাসপাতালের জন্য ওষুধ, কেমিক্যাল, চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সরঞ্জাম ক্রয়ে প্রায় তিন কোটি ৯২ লাখ টাকার টেন্ডারপ্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে অনুসন্ধান শুরু করেছে। বিষয়টি স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। ফলে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে সবাই।

জানা যায়, প্রায় তিন কোটি ৯২ লাখ টাকার এই টেন্ডারের কার্যাদেশ পায় এমএসএম বাংলাদেশ, এমএসএম হেলথকেয়ার ও আলমগীর অ্যান্ড ব্রাদার্স নামের তিনটি প্রতিষ্ঠান। কার্যাদেশ অনুযায়ী, ১০ জুনের পর সাত দিনের মধ্যে মালপত্র হাসপাতালের সার্ভে কমিটির কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত সময়ে সম্পূর্ণ মালপত্র সরবরাহ করেনি।

স্টোরকিপার শিমিয়ন ত্রিপুরা জানান, তিনি সম্পূর্ণ মালপত্র হাতে না পেলেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ‘মালামাল বুঝে পেয়েছি’ মর্মে প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষর করেছেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, টেন্ডারপ্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের দুর্নীতি হয়নি। এরই মধ্যে ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ মালপত্র হাসপাতালে পৌঁছেছে। তাঁর দাবি, যারা টেন্ডারে কাজ পায়নি, তাদের একটি অংশ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘তদন্ত শেষে প্রকৃত তথ্যের ভিত্তিতে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।’

চর উন্নয়ন বোর্ড গঠন দাবি

রামগতি-কমলনগর

রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
চর উন্নয়ন বোর্ড গঠন দাবি

লক্ষ্মীপুরের রামগতি-কমলনগরসহ উপকূলীয় চরাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন, ভাঙন রোধ, যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার প্রসারে পৃথক ‘চর উন্নয়ন বোর্ড’ গঠনের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে নানা সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও অবকাঠামোগত দুর্বলতা, নদীভাঙন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং সরকারি সেবার সীমিত সুযোগের কারণে পিছিয়ে রয়েছে দেশের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলগুলো। এ অবস্থায় চরবাসীর জীবনমান উন্নয়নে একটি বিশেষায়িত বোর্ড গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতারা।

তাঁদের মতে, রামগতি-কমলনগরসহ দেশের ৩২ জেলার ১০০ উপজেলার চরগুলোতে সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক দীর্ঘ উপেক্ষা ও বঞ্চনার ইতিহাস। সেই উপেক্ষার বৃত্ত ভেঙে চর উন্নয়ন বোর্ড গঠনের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

২০১৫ সালে প্রথমবারের মতো ন্যাশনাল চর কনভেনশন নামের এক সভায় চরের উন্নয়নে ১৪ দফা প্রস্তাব তৎকালীন ডেপুটি স্পিকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তৎকালীন ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া বলেছেন, ‘চরের জন্যও মন্ত্রণালয় বা একটি বোর্ড থাকা প্রয়োজন।’

চরবিষয়ক মন্ত্রণালয় গড়ে তোলার জন্য সর্বপ্রথম কুড়িগ্রামে একটি বড় আন্দোলন হয়। অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বেবুর নেতৃত্বে চরবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দাবিতে সভা-সেমিনার হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শুধু রামগতি ও কমলনগর উপজেলায়ই ছোট-বড় মিলিয়ে দুই শতাধিক চর রয়েছে। এসব চরে বসবাস লক্ষাধিক মানুষের। নদীভাঙন ও পলি জমার কারণে এসব চরের সংখ্যা ও আয়তন প্রতিনিয়ত বদলাতে থাকে।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) কমলনগর উপজেলা সভাপতি মিজানুর রহমান মানিক ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক বেলাল হোসেন জুয়েল বলেন, সংবিধান অনুযায়ী সব নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতার যে প্রতিশ্রুতি রয়েছে, চরবাসীর জীবনে তার ছায়াও পড়েনি আজও।

লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, বর্তমান সরকার সব জনগোষ্ঠীর সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে কাজ করছে। চরের উন্নয়নে সরকার আন্তরিক রয়েছে।

‘সলেমান সোলার সেচপাম্প’ ছড়িয়ে দিতে চায় সরকার

ঠাকুরগাঁও

মঈনুদ্দীন তালুকদার হিমেল, ঠাকুরগাঁও
‘সলেমান সোলার সেচপাম্প’ ছড়িয়ে দিতে চায় সরকার

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের মোলানী গ্রামের মো. সলেমান আলী। সোলার সেচপাম্প তৈরি করে এলাকায় সাড়া ফেলার পাশাপাশি অর্জন করেছেন সুনাম। তিনি ১৯৯৬ সাল থেকে সোলার নিয়ে কাজ শুরু করেন। ২০১৪ সালে তৈরি করেন ব্যাটারিবিহীন সোলার সেচপাম্প। ২০১৫ সাল থেকে সোলার দিয়ে তিনি স্থানীয় কৃষকদের সেচ দিয়ে আসছেন। এবার জেলায় ৬২ হাজার ২৮৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হচ্ছে। এর মধ্যে ২৯১টি সোলার পাম্প দিয়ে সেচ দেওয়া হচ্ছে দুই হাজার পাঁচ হেক্টর জমিতে।

কৃষকরা বলছেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না জ্বালানি। এতে চাষাবাদে খরচ ও ভোগান্তি বাড়ছে। ডিজেলচালিত সেচে এক বিঘা জমিতে খরচ হয় পাঁচ হাজার থেকে ছয় হাজার টাকা। অন্যদিকে সৌর পাম্পে খরচ নেমে এসেছে মাত্র আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার টাকায়। এতে খরচ কম, লাভ বেশি এবং কম পরিশ্রমে ফসলও ভালো হচ্ছে। তাই সহজ শর্তে ও স্বল্প মূল্যে সৌর পাম্প সরবরাহে সরকারকে অনুরোধ জানান তাঁরা। জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও জেলায় শুধু সলেমানের তৈরি করা ২৬টি সোলার সেচপাম্প দিয়ে ৩০০ হেক্টর জমিতে সেচ দিচ্ছেন কৃষকরা। এতে চলতি বোরো মৌসুমেই সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার জ্বালানি সাশ্রয় হচ্ছে। এই প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে সারা দেশের কৃষিজমিতে সেচের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ ও ডিজেলের নির্ভরতা কমিয়ে নেওয়ার চিন্তা করছে সরকার।

সলেমান আলীর তৈরি ‘সলেমান সোলার সেচপাম্প’ সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এমপি। গতকাল শুক্রবার ঠাকুরগাঁও সদরে ‘সলেমান সোলার সেচপাম্প’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এ বিষয়ে সলেমান আলী বলেন, ‘মন্ত্রী মহোদয় আমার এই প্রযুক্তি দেশজুড়ে ছড়িয়ে দিতে চেয়েছেন। আমি দেশ ও দশের সেবার জন্যই এটি উদ্ভাবন করেছি। সরকারি সহযোগিতায় সারা দেশে আমি এই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করতে চাই।’