ইউরোপজুড়ে চলমান রেকর্ডভাঙা তীব্র তাপপ্রবাহ এখন এক ভয়াবহ মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ জুন থেকে শুরু হওয়া এই চরম দাবদাহে পুরো মহাদেশে এ পর্যন্ত এক হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসাস এই তীব্র তাপপ্রবাহকে একটি নীরব ঘাতক হিসেবে অভিহিত করে সতর্ক করেছেন। এবারের তাপপ্রবাহে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ফ্রান্স। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার থেকে মাত্র কয়েক দিনে দেশটিতে স্বাভাবিকের চেয়ে এক হাজার জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের একটি বড় অংশই ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণ নাগরিক। তীব্র গরমে বাড়িতেই মারা যাওয়ার হার প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া তাপপ্রবাহ শুরু হওয়ার পর থেকে ফ্রান্সের বিভিন্ন নদী ও হ্রদে গোসল করতে নেমে অন্তত ৭৪ জন ডুবে মারা গেছেন। তাপপ্রবাহটি বর্তমানে পশ্চিম ইউরোপ থেকে ধীরে ধীরে পূর্ব ও মধ্য ইউরোপের দিকে ধাবিত হচ্ছে। গতকাল সোমবারও ইউরোপের প্রায় ১৩ কোটি মানুষ ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপর তাপমাত্রার মুখোমুখি হয়েছে। জার্মানিতে গত এক সপ্তাহে সাঁতার কাটতে গিয়ে অন্তত সাতজন পানিতে ডুবে মারা গেছেন। তীব্র তাপপ্রবাহ থেকে বাঁচতে অনেক মানুষ হ্রদ ও নদীতে গা ভাসাতে যাওয়ায় এই দুর্ঘটনাগুলো ঘটে। দেশটিতে টানা তিন দিন ধরে তাপমাত্রার সর্বকালীন রেকর্ড ভেঙেছে, যেখানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪১.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চেক প্রজাতন্ত্রের ডকসানি অঞ্চলে তাপমাত্রা প্রথমবারের মতো ৪০ ডিগ্রি পার হয়ে ৪১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। পোল্যান্ডের স্লুুবিস শহরে তাপমাত্রা রেকর্ড ৪০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইউরোপ মহাদেশ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে দ্বিগুণ গতিতে উত্তপ্ত হচ্ছে। ঘরবাড়ি ও কর্মক্ষেত্রগুলো এই চরম তাপমাত্রার উপযোগী না হওয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফ্রান্স-যুক্তরাজ্যসহ অনেক দেশে এরই মধ্যে রেড অ্যালার্ট জারি করে স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখা হয়েছে এবং বিদ্যুৎ ও ট্রেন পরিষেবা সীমিত করা হয়েছে। সূত্র : দ্য হিন্দু