• ই-পেপার

হালাল পর্যটন বিকাশে ইন্দোনেশিয়ার নানামুখী উদ্যোগ

কোরআন থেকে শিক্ষা

পর্ব ১১৬৪

কোরআন থেকে শিক্ষা

আয়াতের অর্থ

‘তিনি তাদেরকে সৎপথে পরিচালিত করেন এবং তাদের অবস্থা ভালো করে দেন। তিনি তাদেরকে দাখিল করবেন জান্নাতে, যার কথা তিনি তাদেরকে জানিয়েছেন। হে মুমিনরা! যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য করো, আল্লাহ তোমাদেরকে সাহায্য করবেন এবং তোমাদের অবস্থান দৃঢ় করবেন।...এটা এ জন্য যে আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তারা তা অপছন্দ করে। সুতরাং আল্লাহ তাদের কর্ম নিষ্ফল করে দেবেন।’ (সুরা : মুহাম্মদ, আয়াত : ৫-৯)

আয়াতগুলোতে জান্নাতে জান্নাতিদের অবস্থান, আল্লাহ সাহায্য লাভের শর্ত ও জাহান্নামিদের অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে।

 

শিক্ষা ও বিধান

১. মুজাহিদ (রহ.) বলেন, পরকালে জান্নাতিরা তাদের আবাসস্থল চিনে নিতে কোনো ভুল করবে না। যেন সৃষ্টির পর থেকেই তারা এখানে বসবাস করে।

২. রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, নিশ্চয়ই তাদের প্রত্যেকে পৃথিবীতে তার আবাসস্থল যেভাবে চিনত, তার চেয়ে অধিক তার জান্নাতের আবাসস্থল চিনতে পারবে।

৩. মানুষের আমলের স্তর অনুযায়ী জান্নাতে জান্নাতিদের এবং জাহান্নামে জাহান্নামিদের বিভিন্ন স্তর হবে।

৪. আয়াতে আল্লাহর সাহায্য লাভের শর্ত বর্ণনা করা হয়েছে। তা হলো দ্বিনি কাজ করা এবং দ্বিন প্রতিষ্ঠার কাজে আত্মনিয়োগ করা।

৫. মুসলমানের অবস্থান দৃঢ় করার অর্থ হলো অন্তরে ঈমান, আল্লাহর স্মরণ ও সাহস বৃদ্ধি করা এবং পরিস্থিতি অনুকূল করা। (তাফসিরে মুনির : ১৩/৪০৮)

 

 

প্রশ্ন-উত্তর

হোটেল বা রেস্তোরাঁয় গোশত খাওয়ার বিধান

সমাধান : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা

হোটেল বা রেস্তোরাঁয় গোশত খাওয়ার বিধান

প্রশ্ন : কোনো হোটেল বা রেস্তোরাঁয় যদি গরু, মুরগি ও খাসির মাংস খাওয়া হয় এবং জানা না থাকে সেটা কী পদ্ধতিতে জবাই হয়েছে, অর্থাৎ জবাইয়ের সময় আল্লাহু আকবার বলা হয়েছে কি না? এই সম্পর্কে স্পষ্টভাবে অবগত না থাকলে কি ওই পশুপাখির মাংস খাওয়া জায়েজ হবে?

বিজয়, উত্তরা

উত্তর : আমাদের দেশে প্রচলিত হোটেলগুলোতে সাধারণত মালিক ও কর্মচারী উভয়েই মুসলিম হয়ে থাকে। তাই জবাইয়ের ক্ষেত্রে তাদের সম্পর্কে বিসমিল্লাহ না বলার ধারণা পোষণ করা অর্থহীন। ইসলামের দৃষ্টিতে সন্দেহের ভিত্তিতে কোনো কিছুকে হারাম বা নাজায়েজ বলার অবকাশ নেই। সুতরাং সচরাচর মুসলিম হোটেলগুলো থেকে গরু, খাসি বা মুরগির গোশত কিনে খেতে কোনো সমস্যা নেই। তবে কোনো হোটেলের ব্যাপারে যদি নিশ্চিতভাবে জানা থাকে যে সেখানে স্বেচ্ছায় বিসমিল্লাহ ব্যতীত জন্তু জবাই করা হয় বা অমুসলিম কর্তৃক জবাই করা হয়, তাহলে সেখানকার গোশত খাওয়া কোনোক্রমেই বৈধ হবে না। (রদ্দুল মুহতার : ৬/২৯৯, ফাতাওয়ায়ে তাতার খানিয়া : ১৭/৪০১, আহসানুল ফাতাওয়া : ৮/১০৬)

 

 

 

ধর্মবিশ্বাসের ক্রমবিকাশ

মো. আলী এরশাদ হোসেন আজাদ
ধর্মবিশ্বাসের ক্রমবিকাশ

সাম্য-মৈত্রীর বাণী এবং মানুষের জীবনযাপনের দিকনির্দেশনা নিয়ে যুগে যুগে বিভিন্ন ধর্মের উত্থান ঘটে।

আদিম মানুষের অজ্ঞতা, কল্পনা ও ভয়ভীতি থেকে ধর্মের উৎপত্তি এবং ধারণাটির সূত্রপাত প্রায় ৪০ হাজার বছর আগে মানুষের পূর্বপ্রজাতি নিয়ান্ডার্থাল প্রজাতি থেকে। মানুষের ধর্মচিন্তা বিকশিত হয়েছে প্রধান দুটি ধারায়—

♦ একত্ববাদ (তাওহিদ-একেশ্বরবাদ)

♦ বহুত্ববাদ (শিরক-কুফর)।

আধুনিক গবেষণায় জানা যায়, ধর্মের উদ্ভবের মূলে আছে :

♦ প্রাগৈতিহাসিক যুগ ও প্রকৃতি পূজা :

প্রাগৈতিহাসিক গুহামানব ঝড়, বৃষ্টি, আগুন, বজ্রপাতের মধ্যে অতিপ্রাকৃতিক শক্তির উপস্থিতি কল্পনা করত। ফলে চন্দ্র, সূর্য, নদী, আগুনের মতো প্রাকৃতিক উপাদানের পূজা শুরু হয়।

♦ সমাজবিজ্ঞানের তত্ত্ব :

(ক) সর্বপ্রাণ (Animism) সর্বেশ্বরবাদ : নৃবিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের স্বপ্ন দেখা ও মৃত্যুর ধারণা থেকে আত্মা ও অতিপ্রাকৃত শক্তিতে বিশ্বাস জন্মায়।

(খ) প্রকৃতিবাদ (Natute-worship) : প্রাকৃতিক বিশালতা ও রহস্যময়তায় মানুষের মুগ্ধতা ও ভীতিই ধর্মের মূল উৎস।

♦ বিভিন্ন ধর্মের ক্রমবিকাশ :

(ক) আদিম বিশ্বাস, পৌরাণিক ধর্ম : প্রাচীন মেসোপটেমিয়া, মিসর, গ্রিস, সিন্ধু সভ্যতায় সর্বেশ্বরবাদ বা বহু ঈশ্বরবাদী ও পৌরাণিক ধর্মের প্রচলন হয়।

(খ) ইব্রাহিমি ধর্ম : মধ্যপ্রাচ্যে উদ্ভূত তাওহিদবাদী ধর্মের মধ্যে রয়েছে ইহুদি, খ্রিস্টান, ইসলাম ধর্ম।

(গ) ভারতীয় ধর্ম : ভারতীয় উপমহাদেশে উৎপত্তি লাভ করে হিন্দুধর্ম, বৌদ্ধধর্ম ও জৈনধর্ম।

মানব ইতিহাসের মতোই ধর্মের বিকাশ-বিবর্তনের কোনো সর্বসম্মত তত্ত্ব নেই। আছে একাধিক মত, আছে লিখিত ও অলিখিত দর্শনের বিতর্ক এবং তথ্যের আবর্তন। এমনই আলোচনায় ধর্মের বিকাশধারায় আছে :

ট্যাবু : লোকাচার ও রীতিনীতি। ট্যাবু সমাজ আরোপিত কঠোর বিধি-নিষেধ, নিষিদ্ধ বা অগ্রহণযোগ্য বিষয়। নৈতিকতা, বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় নিয়ম থেকে মৃতের সৎকার ও মৃত ব্যক্তির স্বজনদের মঙ্গলাচরণ এবং শাসকশ্রেণির ওপর আরোপিত দেবত্ব-অতিভক্তি ইত্যাদি ।

টোটেম : টোটেম হলো কোনো গোত্র, উপজাতি বা সমাজ গোষ্ঠীর বিশেষ প্রতীক, যা সাধারণত কোনো প্রাণী, পাখি, গাছ বা প্রাকৃতিক বস্তুর মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। মানুষ এ প্রতীককে তাদের রক্ষাকর্তা, শক্তির উৎস বা পরিচিত চিহ্ন হিসেবে গ্রহণ করে।

মানা : মানা হলো দ্রব্য ও বস্তুগত শক্তি। এটা মানুষের সাফল্য, মুক্তি ও মানসিক প্রশান্তির কারণ মনে করা হয়।

ম্যাজিক : কৌশল, তন্ত্রমন্ত্রের অতি ইন্দ্রিয় ক্ষমতা।

তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব হলো, বিভিন্ন ধর্মের মৌলিক বিশ্বাস, উপাসনা পদ্ধতি, নৈতিকতা, আচার অনুষ্ঠান এবং ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ বিশ্লেষণ করে পার্থক্য ও মিল-অমিল অনুধাবন করার একটি শাস্ত্র। পবিত্র কোরআনে উৎসাহ—তোমরা কিতাবিদের (আসমানি কিতাবের অনুসারী) সঙ্গে উত্তম উপায়ে তর্ক-বিতর্ক করো।’ (সুরা : আনকাবুত, আয়াত : ৪৬)

বর্তমানে ৮৩০ কোটি (৮.৩ বিলিয়ন) মানুষের মধ্যে প্রায় চার হাজার তিন শ ধর্ম প্রচলিত আছে। Pew Research Center, Britanica এবং সংশ্লিষ্ট ধর্মের ডেটা বেইস অনুযায়ী বৈশ্বিক ধর্মসমূহের পরিসংখ্যান রিপোর্ট ২০২৬ হলো—

খ্রিস্টধর্মের অনুসারীর সংখ্যা ২৪৫ কোটি (২.৪৫ বিলিয়ন) বা ২৯.৫%। ইসলাম ধর্ম ১৯৫ কোটি (১.৯৫ বিলিয়ন) বা ২৩.৫%। হিন্দু ১২০ কোটি (১.২০ বিলিয়ন) বা ১৪.৫%। বৌদ্ধ ৫২ কোটি (৫২০ মিলিয়ন) বা ৬.৩%। চীনা লোক ধর্ম ৪২ কোটি (৪২০ মিলিয়ন) বা ৫.০%। শিখ  তিন কোটি (৩০ বিলিয়ন) বা ০.৩৬%। ইহুদি এক কোটি ৫৮ লাখ (১৫.৮ মিলিয়ন) বা .১৯%। বাহাই ৮০ লাখ (৮ মিলিয়ন) বা ০.১০%। জন

৫০ লাখ (৫ মিলিয়ন) বা ০.০৬%। শিন্তো ৩৫ লাখ (৩.৫ মিলিয়ন) বা ০.০৪% এবং অন্যান্য ধর্ম ১% এর নিচে। ধর্মহীন মানুষের সংখ্যা ১২৫ কোটি (১.২৫ বিলিয়ন) বা ১৫.১%।

ইসলামে শিরক কুফরের স্থান নেই। একত্ববাদের পরিপন্থী বিষয় ইসলামে নিষিদ্ধ। অথচ ইসলাম ছাড়া অন্যান্য ধর্মে  প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বহুত্ববাদ, সর্বেশ্বরবাদ, সর্বপ্রাণবাদ (Animism) তথা কুফর শিরক সমর্থন করে।

ইসলাম ছাড়া অন্য মতপথের কোনো মূল্যও নেই—‘কেউ ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম গ্রহণ করতে চাইলে তা কখনো কবুল করা হবে না...।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ৮৫)

বস্তুত ধার্মিকতার মূলশক্তি বিশ্বাস। শুদ্ধাচার, মানবিক পূর্ণতা যার মধ্যে যত বেশি, তিনিই তত যথার্থ ধার্মিক। সাম্য-ভ্রাতৃত্বের প্রীতিময় সুসম্পর্ক ইসলামের অঙ্গীকার ও দর্শন। এ জন্যই মহান আল্লাহর নির্দেশ, ‘উদ্খুলু ফিসসিলমি কাফ্ফা’ অর্থাৎ ‘তোমরা ইসলামে পরিপূর্ণভাবে প্রবেশ করো।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২০৮)

 

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান

ইসলামিক স্টাডিজ, কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ

কাপাসিয়া, গাজীপুর

 

 

ইসলামের দৃষ্টিতে যাঁরা বিশেষ সম্মানের অধিকারী

মুফতি দিদার হুসাইন
ইসলামের দৃষ্টিতে যাঁরা বিশেষ সম্মানের অধিকারী

ইসলামে মানুষের সম্মান শুধু সামাজিক শিষ্টাচার নয়; বরং এটি ঈমান ও আল্লাহভীতিরই প্রতিফলন। পবিত্র হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহকে সম্মান করার একটি অংশ হলো, বৃদ্ধ মুসলিমকে সম্মান করা, কোরআন ধারণকারীকে সম্মান করা এবং ন্যায়পরায়ণ শাসককে সম্মান করা। (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৮৪৩)

এ হাদিসে স্পষ্টভাবে বোঝানো হয়েছে, এই তিন শ্রেণির মানুষকে সম্মান করা মূলত আল্লাহর প্রতি সম্মান প্রদর্শনেরই অংশ। নিম্নে এই তিন শ্রেণির বিষয়টি আরো স্পষ্ট করে তুলে ধরা হলো—

বয়োজ্যেষ্ঠ মুসলিম : পবিত্র হাদিসে বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিদের সম্মান করার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। হাদিসের ভাষ্যমতে, আল্লাহ তাআলার প্রতি ভক্তি-সম্মান প্রদর্শনের দাবি হলো মজলিস-বৈঠকে প্রবীণ ও বয়স্ক মুসলিমদের সম্মানজনক স্থানে বসানো, তাঁদের প্রতি ভক্তিপূর্ণ আচরণ করা, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে তাঁদের যথাযথ সেবাযত্ন করা। যেমন—হাত ধরে রাস্তা পার করিয়ে দেওয়া, যানবাহনে উঠতে সাহায্য করা, অজু-ইস্তিঞ্জায় সহজতার প্রতি লক্ষ রাখা ইত্যাদি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে আমাদের ছোটদের দয়া করে না এবং বড়দের সম্মান করে না, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। (তিরমিজি, হাদিস : ১৯২০, আবু দাউদ, হাদিস :৪৯৪৩)

এটি প্রমাণ করে যে বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মান করা ইসলামী চরিত্রের মৌলিক একটা অংশ।

বর্তমান সমাজের অনেক জায়গায় দেখা যায়, তরুণরা বড়দের কথা শোনে না, অসম্মানজনক আচরণ করে এবং তাঁদের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেয় না। পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে বড়দের প্রতি সেই আগের মতো শ্রদ্ধাবোধ অনেকটাই কমে গেছে। ফলে পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হচ্ছে।

আলেম তথা কোরআনধারী ব্যক্তি : যাঁরা মহাগ্রন্থ আল-কোরআনের জ্ঞান ধারণ করেন ও তা প্রচার করেন, মহান আল্লাহর দরবারে তাঁদের বিশেষ সম্মান রয়েছে। এ ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘আল্লাহ তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে (আলেমগণ), তাদের মর্যাদা বহু স্তরে উন্নীত করেন।’ (সুরা : আল-মুজাদালা, আয়াত : ১১)

হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে কোরআন শেখে এবং শেখায়। (বুখারি, হাদিস : ৫০২৭)

অন্য হাদিসে এসেছে, আলেমরা নবীগণের উত্তরাধিকারী। (তিরমিজি, হাদিস : ২৬৮২)

আলেমদের সম্মান করা মানে দ্বিনের আলোকে সম্মান করা। কারণ তাঁরা নবীদের উত্তরাধিকারী। আলেমদের অবমাননা করা মূলত ইলম ও শরিয়তের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করা।

বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে আলেম ও কোরআনধারী ব্যক্তিদের যথাযথ সম্মান দেওয়া হয় না। কেউ কেউ দ্বিনি জ্ঞানকে ছোট করে দেখে বা সামাজিকভাবে তাঁদের গুরুত্ব কমিয়ে দেয়। অথচ সমাজের নৈতিক দিকনির্দেশনার মূল ভিত্তিই তাঁরা। এই অবমূল্যায়ন সমাজে দ্বিনি চেতনা দুর্বল করে দিচ্ছে।

ন্যায়পরায়ণ শাসক : যে শাসক জনসাধারণের মধ্যে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করে, নিজেও কারো প্রতি জুলুম করে না, জনগণকেও পারস্পরিক জুলুম-নিপীড়ন থেকে বিরত রাখে, আল্লাহ তাআলার কাছে তার মর্যাদা অপরিসীম। হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সাত শ্রেণির মানুষকে আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তাঁর ছায়ায় স্থান দেবেন, তাদের মধ্যে অন্যতম এক শ্রেণি হলো, ন্যায়পরায়ণ শাসক। (বুখারি, হাদিস : ৬৮০৬)

অন্য হাদিসে এসেছে : আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় সেই ব্যক্তি, যে মানুষের জন্য বেশি উপকারী। (আল মুজামুল আওসাত, হাদিস : ৫৭৮৭)

যে সমাজ বয়োজ্যেষ্ঠ, আলেম ও ন্যায়পরায়ণ নেতৃত্বকে সম্মান করতে শেখে, সে সমাজেই নৈতিকতা, স্থিতি ও বরকত প্রতিষ্ঠিত হয়। আর যেখানে এ সম্মান লোপ পায়, সেখানে নৈতিক অবক্ষয় ও সামাজিক অস্থিরতা অনিবার্য হয়ে ওঠে। আল্লাহ তাআলা আমাদের ইসলামের সঠিক বুঝ দান করুন।