দেশে গত এক দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে আরো পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৫৪ জনের। হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে ৯৬৫ জন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত হাম পরিস্থিতি নিয়ে এই তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯০২ জন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৩৭২ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৮০ জন, বরিশাল বিভাগে ১০৩ জন, সিলেট বিভাগে ৮৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৫৮ জন, রাজশাহী বিভাগে ৪৪ জন, খুলনা বিভাগে ৪১ ও রংপুর বিভাগের হাসপাতালগুলোতে ১৭ জন ভর্তি রয়েছে।
গতকাল হামের উপসর্গে মারা যাওয়া পাঁচ শিশুর মধ্যে ঢাকায় তিনজন, সিলেট ও বরিশালে একজন করে মারা গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, সারা দেশে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯৩ জনের। এ ছাড়া উপসর্গ নিয়ে ৬৩১ জন মারা গেছে। এ পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ২৭২ জন মারা গেছে ঢাকায়। এ ছাড়া রাজশাহী বিভাগে ৮৮, সিলেটে ৮১, চট্টগ্রামে ৫১, বরিশালে ৪০, ময়মনসিংহে ৬২, খুলনায় ২৮ এবং রংপুরে আটজন মারা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, এ পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল এক লাখ দুই হাজার ৯৯৩ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১২ হাজার ২৮৬ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৫ মার্চ থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৬ হাজার ৪১১ জন রোগী ভর্তি হয়। এই সময়ে চিকিৎসা নিয়ে ৮২ হাজার ৭৫৯ জন ছাড়পত্র পায়। অর্থাৎ গতকাল সারা দেশে তিন হাজার ৬৫২ জন হামের রোগী হাসপাতালে ভর্তি ছিল। সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১ মে সারা দেশের হাসপাতালে রোগী ভর্তি ছিল তিন হাজার ৪৫০ জন।
অর্থাৎ হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা কমছে না। হাসপাতালে ভর্তি ছাড়াও হামের রোগী আছে, যারা বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণ এখনো নিয়ন্ত্রণে না আসায় হাসপাতালে রোগী আসছে। ভর্তিও হচ্ছে।



