• ই-পেপার

মেসির মোহন বাঁশিতে ছুটছে আর্জেন্টিনা

ছুটির ঘোষণা

ছুটির ঘোষণা

আজ ২৬ জুন শুক্রবার পবিত্র আশুরা উপলক্ষে কালের কণ্ঠের সব বিভাগ বন্ধ থাকবে। তাই কাল ২৭ জুন শনিবার পত্রিকা প্রকাশিত হবে না। তবে কালের কণ্ঠ অনলাইন ও মাল্টিমিডিয়া চালু থাকবে। ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক

 

উক্তি

উক্তি

মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা

পৌঁছে দিতে স্বাস্থ্য খাতকে সম্পূর্ণ

ঢেলে সাজাচ্ছে সরকার।

ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সমাজকল্যাণমন্ত্রী

ব্রাজিল মেটাল সৌন্দর্যের তৃষ্ণাও

রানা শেখ
ব্রাজিল মেটাল সৌন্দর্যের তৃষ্ণাও
ব্রাজিল তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও নেইমার। ছবি : রয়টার্স

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের তখন এক ঘণ্টা পেরিয়েছে। নিজেদের অর্ধ থেকে বল নিয়ে সামনে এগিয়ে যান মার্কিনিয়োস। এই সেন্টার ব্যাকের মধ্যে কোনো তাড়াহুড়া ছিল না, যেন সবকিছু নিয়ন্ত্রণে। ঠিক যেমন ম্যাচজুড়ে ছিল ব্রাজিল। মার্কিনিয়োস যখন মধ্যমাঠের কাছে পৌঁছেন, তখন সামনে ফাঁকা না পেয়ে পাশে থাকা গ্যাব্রিয়েলের কাছে বল ঠেলে দেন। গ্যাব্রিয়েল দ্রুত পাস বাড়ান স্কটল্যান্ডের অর্ধে থাকা ডগলাস সান্তোসের কাছে। সান্তোসের পা ঘুরে বল চলে যায় মাতিয়েস কুনিয়ার কাছে। কাগজে-কলমে তিনি ব্রাজিলের সেন্টার ফরোয়ার্ড, কিন্তু তখন তাঁর অবস্থান ছিল মধ্যমাঠে। কুনিয়া সঙ্গে সঙ্গে বল ব্যাক পাস দেন গ্যাব্রিয়েলকে। এরপর আবার মার্কিনিয়োস, সেখান থেকে দানিলো। বল ঘুরছে ছন্দোময় গতিতে। স্কটল্যান্ডের খেলোয়াড়রা এক পাশ থেকে আরেক ছুটছেন, আর ব্রাজিল ধৈর্য ধরে পাস খেলছে। কিন্তু সেই ধৈর্যই রূপ নেয় বিস্ফোরণে।

হঠাৎই গতি বাড়িয়ে দেন দানিলো। কিছুটা এগিয়ে তাঁর দেওয়া একটি পাস পৌঁছে যায় লুকাস পাকেতার কাছে। পাকেতা প্রথম টাচেই বল দেন কাসেমিরোকে। আর কাসেমিরো প্রথম স্পর্শেই স্কটিশ রক্ষণভাগ ভেঙে বল বাড়িয়ে দেন ডান দিক দিয়ে ছুটে চলা ব্রুনো গিমারেসের সামনে। কেনি ম্যাকলিনকে শক্তির লড়াইয়ে হারিয়ে দেন ব্রুনো। একমুহূর্তের কৌশলী পায়ে জ্যাক হেন্ড্রিকেও ছিটকে দেন। বক্সে ঢুকতেই তিনজন স্কটিশ খেলোয়াড় তাঁর দিকে ঝাঁপিয়ে পড়েননাথান প্যাটারসন, ফিরে আসা হেন্ড্রি এবং গোলরক্ষক অ্যাঙ্গাস গান। ঠিক তখনই ব্রুনো শরীর ঘুরিয়ে আরো ভেতরে যাওয়ার ভান করেন। সবাই তাঁর দিকে ঝুঁকে পড়েন। আর সেই সুযোগে বলটি আলতো করে ঠেলে দেন বিপরীত দিকে, যেখানে পেছন থেকে দৌড়ে এসে হাজির হন কুনিয়া। ফাঁকা পোস্টে বল জড়িয়ে দিতে তাঁর কোনো ভুল হয়নি। পুরো আক্রমণের আগে ১৮ সেকেন্ড ব্রাজিল নিজেদের রক্ষণে বল ধরে রেখেছিল। এরপর মাত্র ৭ সেকেন্ডে বল জালে। ২৫ সেকেন্ডের এই আক্রমণেই ধরা পড়েছে সেই ব্রাজিলকে, যাকে ফুটবলবিশ্ব যুগের পর যুগ দেখে আসছে। অবাক করা ব্যাপার যে এই গোলের সঙ্গে সরাসরি যোগসূত্র ছিল না দিনের সেরা খেলোয়াড় ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের। কিন্তু সেটাই যেন ব্রাজিলের আসল সৌন্দর্য। ব্যক্তিগত তারকার ঝলক নয়, বরং একের পর এক নিখুঁত পাসে বলের অবাধ প্রবাহই তাদের ফুটবলকে অনন্য করে তোলে।

বিশ্বকাপে আসার আগে এই ব্রাজিল দলকে ঘিরে অসংখ্য প্রশ্ন ছিল। মরক্কোর বিপক্ষে বাজে পারফরম্যান্স সেই প্রশ্নের স্রোত আরো বাড়িয়ে দেয়। এরপর হাইতির বিপক্ষে তিন গোলের জয় কিছুটা স্বস্তি দিলেও, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষেও ৩-০ গোলের জয়ে প্রথমবারের মতো মনে করিয়ে দিল, হয়তো ব্রাজিল আবার সেই ব্রাজিল হয়ে উঠছে। গত দুই দশকে বিশ্বকাপের মঞ্চে সেলেসাওদের যাত্রা ছিল হতাশার গল্পে ভরা। ২০০৬ সালে জিনেদিন জিদানের ফ্রান্স, ২০১০ সালে ওয়েসলি স্নেইডারের নেদারল্যান্ডস, ২০১৪ সালে জার্মানির ঐতিহাসিক ৭-১, ২০১৮ সালে থিবো কোর্তোয়া-কেভিন ডি ব্রুইনাদের বেলজিয়াম এবং ২০২২ সালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে বিদায়প্রতিবারই স্বপ্ন ভেঙেছে। এই সময়জুড়ে ব্রাজিল ভালো খেলেছে, কিন্তু সেই পুরনো জাদুটা খুব কমই দেখা গেছে। নেইমার প্রায় একাই দলকে কাঁধে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। নতুন প্রজন্মের অনেক সমর্থকের তাই প্রশ্ন ছিল, ব্রাজিলকে নিয়ে এত কথা কেন? এই সেলেসাওদের বিশেষত্ব কোথায়? উত্তর খুঁজতে আবার দেখুন সেই ২৫ সেকেন্ডের আক্রমণ। সেখানে আছে ধৈর্য, ছন্দ, হঠাৎ গতি পরিবর্তন, ব্যক্তিগত দক্ষতা, নিঃস্বার্থতা এবং নিখুঁত সমন্বয়। আছে ও জোগো বোনিতো’—সুন্দর ফুটবলের প্রকৃত রূপ। কুনিয়ার করা ব্রাজিলের তৃতীয় গোলটি ফুটবলবিশ্বে একটি বার্তা পৌঁছে দিয়েছেপাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা এবার সত্যিই কিছু করে দেখাতে এসেছে।

এই ব্রাজিলের পুনর্জাগরণের পেছনে সবচেয়ে বড় কারিগর কোচ কার্লো আনচেলোত্তি। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি দলটিকে নতুন পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করছেন। ব্যক্তিনির্ভর ফুটবল থেকে বেরিয়ে একটি দল হয়ে খেলায় জোর দিয়েছেন। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় গোলটি ছিল সেই দর্শনেরই প্রতিফলন। রক্ষণ থেকে আক্রমণে ওঠা, দ্রুত পাসের আদান-প্রদান এবং নিখুঁত সমন্বয়সবকিছুই ছিল পরিকল্পনার অংশ। সেখানে কোনো একক তারকার ঝলক নয়, বরং পুরো দলের প্রচেষ্টা ছিল চোখে পড়ার মতো। আনচেলোত্তির অধীনে ব্রাজিল আবারও ছন্দোময় ও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছে। সবচেয়ে বড় কথা, দলটি এখন আরো সংগঠিত। মাঠে প্রতিটি খেলোয়াড় নিজের ভূমিকা সম্পর্কে পরিষ্কার। দীর্ঘদিন পর ব্রাজিলকে দেখে আবার সেই পুরনো সেলেসাও-এর আবহ পাওয়া যাচ্ছে। আর সেই পরিবর্তনের ক্রেডিট আনচেলোত্তির। নক আউট পর্বেও জোগো বোনিতোর ছন্দ মেলে ধরার চ্যালেঞ্জ সেলেসাওদের।

রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক

ফ্রান্সের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহবান জামায়াত আমিরের

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফ্রান্সের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহবান জামায়াত আমিরের
শফিকুর রহমান

বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শার্লেটে। এ সময় জামায়াত আমির বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে ফ্রান্সের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহবান জানান।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ফ্রান্স দূতাবাসের পলিটিক্যাল অ্যাটাচি এমিলি পালাউয়ান উপস্থিত ছিলেন। জামায়াত আমিরের সঙ্গে আরো উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এমপি এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর।

বৈঠকে বাংলাদেশে নির্বাচন-পরবর্তী চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর টেকসইকরণ, মানবাধিকার পরিস্থিতি, বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে দুর্নীতি দূরীকরণ এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়।

বিরোধীদলীয় নেতা বাংলাদেশের সঙ্গে ফ্রান্সের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রশংসা করেন।